বাগমারায় লোকালয়ে ফিলিং স্টেশন: ঝুঁকিতে ১০টি পরিবার

আবু বাককার সুজন বাগমারা (রাজশাহী)

রাজশাহীর বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের হাট মচমইল এলাকায় দশটি পরিবার ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিতে রেখে লোকালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি ফিলিং স্টেশন। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকায় ওই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করায় এর আশেপার্শ্বে বসবাসকারি লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

এ অবস্থায় ওই ফিলিং স্টেশনটির লাইসেন্স বাতিল করে তা বন্ধ করে দেয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগটি করেছেন মাষ্টার আনিছুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের হাট মচমইল বাজার সংলগ্ন চেয়ারম্যান মোড়টি অত্যন্ত ঘনজনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। সেখানে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ওইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার ১০/১২টি পরিবারের লোকজনকে চরম ঝুঁকিতে রেখে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে লোকালয়ে স্থাপন করা হয়েছে মেসার্স সোহেল ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প। ‘যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড’ ডিলার এর পক্ষে এলাকার প্রভাবশালী সহিদুল ইসলাম সম্প্রতি ওই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি ও বিষ্ফোরক আইনের ধারা অনুযায়ী কোনো জনবসতিপূর্ণ এলাকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো ফিলিং স্টেশন স্থাপন করা যাবে না। তাছাড়া কোনো ভবনের মধ্যে ডিজেল কিংবা পেট্রোল সংরক্ষণের জন্য কোনো রিজার্ভ ট্যাংকি রাখা যাবে না। কিন্তু মেসার্স সোহেল ফিলিং স্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিষ্ফোরক আইনের ধারা অনুযায়ী কোনো বিধিনিষেধই মানা হয়নি।

ওই ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন বসবাসকারি আরাফাত হোসেন, আমজাদ হোসেন, আয়ূব আলী ও আমিনুল ইসলামসহ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের বাড়ি সংলগ্ন ঘনজনবসতিপূর্ণ স্থানে ওই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপনের পর থেকেই তারা জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। তাছাড়া ওই ফিলিং স্টেশনের ডিজেল ও পেট্রোল সংরক্ষণের রিজার্ভ ট্যাংকি একটি ভবনের মধ্যে থাকায় যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনার আশংকায় রয়েছেন তারা। তাছাড়া ওই ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ী দাঁড়ানোর মতো কোনো ফাঁকা জায়গা নাই। এ কারণে তেল নিতে আসা গাড়ীগুলো রাস্তার উপর লাইনে দাঁড়িয়ে রাখতে হয়। এতে ওই রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মেদ বলেন- বিষ্ফোরক আইনের ধারা অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ কোনো এলাকায় ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোতি পাওয়ার কথা নয়। কাজেই বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।

মেসার্স সোহেল ফিলিং স্টেশনের মালিক সহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েই ‘যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড’ ডিলার এর পক্ষে ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে।

বগুড়াস্থ যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এর এজিএম (এ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার) জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি এই অফিসে যোগদানের পূর্বে ওই ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে এর লাইসেন্স কিভাবে পেয়েছে তা সংশ্লিষ্ট বিষ্ফোরক পরিদপ্তই বলতে পারবে।

রাজশাহীর বিষ্ফোরক পরিদপ্তর বিভাগের বিষ্ফোরক পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম বলেন, কোনো ফিলিং স্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী ও জেলা প্রশাসকের অনুমোতি নিতে হয়। এরপরই বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে লাইসেন্স দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *