বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাঘার কিন্ডারগার্টেন স্কুল

মোঃ লালন উদ্দীন, বাঘা রাজশাহী : কোভিড মহামারির কারনে টানা এক বছর হলো বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নতুন বছর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভর্তিযুদ্ধেও সেই চিরচেনা রূপ আর নেই। বন্ধ থাকা বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ,বিশেষত কিন্ডারগার্টেনে নেই শিক্ষার্থী,কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারছেনা শিক্ষক ও কর্মচারীদের।
যেসব কিন্ডারগার্টেনের সুনাম ছিল, এর মধ্যেই তা ম্লান হয়ে পড়েছে। সব মিলে বন্ধ হওয়ার পথে বাঘার কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলো।
প্রতিষ্ঠান গুলোর পক্ষ হতে বলা হচ্ছে,কোভিড মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছরে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেও শিক্ষার্থী ভর্তির সাড়া মিলছে না অনেক অভিভাবকের আয়ের পথ বন্ধ।
অনেকের জীবিকার ওপর হুমকি তৈরী হয়েছে। এ কারণে তারা সন্তানদের কিন্ডার গার্টেনে ভর্তি করা থেকে বিরত থাকছেন। অনেক অভিভাবক করোনা ঝুকি এড়াতে শিশুদের ভর্তি করাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষার্থী ভর্তি একেবারে কমে গেছে। এ ভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বাঘার কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো আগামী মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘা পৌর শহর বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘবিরতির পর স্কুলগলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালালেও সাড়া মিলছে না। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে সন্তানদের ভর্তির ব্যাপারে অভিভাবকেরা অনীহা প্রকাশ করেছেন। বেশিরভাগ অভিভাবকই সরকারী স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন। কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলোতে চলতি বছরে শিক্ষার্থী ভর্তি নেই বললেই চলে। যে কয়জন ভর্তি হয়েছে তা দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কিন্ডারগার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর এ কারনে অনেককেই স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বাঘা উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত ৩২ কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে। অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত এছাড়াও বাঘার আনাচে কানাচে ২০১৯ সালে আরও অন্তত ২০ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ থাকে এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল। বিশেষ করে নতুন ভাবে গড়ে তোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই্ অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেইে গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান খুলেন। বাকি স্কুলগলো গত ডিসেম্বর থেকে খুলে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেন। কিন্তুু তারপরেও ভর্তি নেই বললেও চলে।
এদিকে সন্তানদের আদৌ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে ভর্তি করাবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। অধিকাংশ অভিভাবকরা সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি না করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন। কারণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুযোগ সুবিধা বেশী। নিরাপত্তা, বিনামূল্যের বই, বেতন নেই ,ফ্রী টিফিন , আবার মেধা ভিত্তিতে মাসিক বেতন পর্যন্ত দেয়া হয়। আর করোনাকালে লেখাপড়ার যেহেতু চাপ কম, তাই কিন্ডারগার্টেনের দিকে অভিভাবকের আগ্রহ কম।
মালিক পক্ষ মনে করেছিলেন এবার আশানুরুপ শিক্ষার্থী ভর্তি হলে বিগত দিনের লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে।কিন্তু পরিস্থিতি এখনো অনূকুলে না আশায় শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে এসব স্কুল।
অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বিগত দিনের বাড়িভাড়া ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষার্থী ভর্তির যে হার,তাতে এই মোটা অংকের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তারা বলেছের, এ অবস্থার উত্তরণ এপ্রিল মাসের মধ্যেও না হলে পরবর্তী মাসেই অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন সবাই।
বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন স্কুল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী না হলেও,কাছাকাছি সংখ্যক শিক্ষার্থী হয়। কিন্ত এবার পুরোটায় উল্টো। গত ডিসেম্বর থেকে নামিদামি কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে কোটা পুরণ হয় নি।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের বাঘা উপজেলার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল রবি প্রতিবেদকে বলেন, বকেয়া বেতন পরিশোধের আশঙ্কায় অভিভাবকেরা যোগাযোগ করছেন না আর দুই একজন ভর্তি হলেও বকেয়া পরিশোধের ধাক্কা থেকে রেহায় পেতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করছে।
তিনি বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো বাচিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন করা হয়েছে । এ বিষয়ে গত বছর মানববন্ধন শেষে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
‘প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আছে। তাদের চিন্তা ছিল এবার শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও মাথা থেকে নামবে। কিন্তু এখন সেই ঋণের পরিমান আরো বেড়ে গেছে। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো কারই পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোন রাস্তা দেখছে না মালিকরা।
তিনি আরো বলেন, মহামারি করোনায় লকডাউন চলামান অবস্থায় প্রধান মন্ত্রী ত্রান তহবিলের আওতায় বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাঘা পৌরসভা মাধ্যেমে একবার শিক্ষক কর্মচারীদের মাঝে ৫শত টাকা টাকা প্রদান করা হয়েছিল অনেক শিক্ষকই তা পায়নি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *