প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পাবার স্বপ্ন দেখেন গোমস্তাপুরের ফুরকুনি বেগম

আল-মামুন বিশ্বাস,গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে ঃ ফুরকুনি বেগম। বয়স ৭০ হবে। নেই কোন জমি-জমা, অন্যের জায়গায় বসবাস করছেন তিনি। ভিক্ষা ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হয় তাকে। দুঃখ যেন তার আজন্ম ললাট লিখণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রামের মৃত ফেলু শেখ এর বড় মেয়ে ফুরকুনী বেগম। দুঃখের সাথে তার নিত্য বসতি। অল্প বয়সে একই গ্রামের রাশেদ আলীর সাথে বিয়ে হয় । রাশেদের তেমন কোন জমি ছিল না। অন্যের কাঠাখানেক জমির ওপর ভিটেটুকু তৈরি করেন। স্বামীকে নিয়ে স্বপ্নের সংসার গড়ে তোলেন ফুরকুনী বেগম । সংসারে অর্থাভাব থাকলেও সুখের অভাব ছিলো তার । একসময় কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে মেয়ে। নাম রাখেন আমেনা। কিন্তু সুুখের সাথে যেন তার বৈরিতা জন্মসূত্রেই। ১৯ বছরের সংসারে কালবৈশাখী ঝড়ের মত এসে স্বামী রাশেদ আলীর মৃত্যু হয়। দূরারোগ্য ব্যাধিতে তার স্বামীর অকাল মৃত্যু হয়। চোখে তখন ঘোর অন্ধকার । মেয়েকে নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবে তার দুশ্চিন্তায় বিভোর ফুরকুনি। শিশুকন্যা আমেনাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীন জীবন সংগ্রাম চলে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে থাকে। সময়ের সাথে বড় হতে থাকে আমেনা। বখাটেদের উৎপাত এড়াতে আমেনাকে পাত্রস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি । মেয়ের সুখ দেখার আশায় মাথাগোছার ঠাই ভিটেটুকু বিক্রি করে দেন। পরে জলে ভাসা শেওলার মতো ভেসে বেড়িয়েছেন এদিক ওদিকে । রোদে পুড়েছেন, বৃষ্টিতে ভিজেছেন। রাত কাটিয়েছেন অন্যের অনুগ্রহে এখানে ওখানে।
ফুরকুনি বেগম বলেন,সবাই বাড়ি পাচ্ছে অথচ হ্যামি বাড়ি পাচ্ছিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের বাড়িঘর-জমি-জমা নেই তাদের ইটের বাড়ি করে দিচ্ছে। সাথে জমির দলিল দিয়ে দিচ্ছেন। শুণে খুব খুশি হয়েছি। হ্যামারতো কিছুই নেই। এ বয়সে একটি বাড়ি পাওয়ার জন্য অনেকের কাছে দারস্ত হয়েছি। কেউ তাকে সহযোগিতা করছেনা। হ্যামি কি পাবার যোগ্য না?
ফুরকুনির ছোট ভাই শুকুদ্দি বলেন, পিতার জমি ভাগ হলে তার বোন পৈত্রিকসূত্রে পৌনে ১৪ কাঠা জমি পায়। বোনের স্বামী মারা যাওয়ায় পর মেয়ে ও নাতনির বিয়েতে জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যায়। পরে তার আশ্রয়ের একটু জায়গায় টিনের ছাউনি (চালা) তুলে বসবাস করছেন। এদিকওদিক চলাফেরা করে আবার কারো বাড়িতে কাজ করে জীবন-যাপন করে থাকে। শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে থাকেন বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট ২ নং ইউপি সদস্য গোলাম মর্তুজা বলেন, বৃদ্ধার আইডি কার্ড নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সকলের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী তালিকায় তার নাম থাকে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বোয়ালিয়া ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান শুকরুদ্দিন বলেন, ফুরকুনির বিষয়ে তার জানা নেই। তবে গৃহহীনদের নতুন করে তালিকা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে বলব খোঁজ নিয়ে তার নামটি যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা ফুরকুনির বাড়ী না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত আছে। বাড়ী বরাদ্দের তালিকায় অবশ্যই তার নাম তালিকাভূক্ত করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *