নৌকা প্রতীক পেলে এবারো বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত দ্বীপপুর ইউপির চেয়ারম্যান দুলাল

আবু বাককার সুজন বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দ্বীপপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল। এবার নৌকা প্রতীক পেলে পুন:বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত এবং দলকে অবশ্যই চেয়ারম্যান উপহার দিতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী মকলেছুর রহমান দুলাল দাবি করেন, জন্মসূত্রে আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমার বাবা বীর মুক্তযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ দেশ স্বাধীনের পর থেকে অদ্যবধি পর্র্যন্ত এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া ৩৭ বছর যাবৎ এই ইউনিয়নে তিনি ৬ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে আমি এই ইউনিয়নের হাল ধরেছি। গতবারের নির্বাচনে আমি এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাই এবারের নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার আশায় নির্বাচনী মাঠে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এবার আমি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে পুন:চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ শতভাগ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করতে চাই। এ লক্ষে ইউনিয়নের সকল শ্রেণীর পেশা জীবি মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষনিকভাবে ইউনিয়নবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি এবং সেই লক্ষে রাত-দিন নিরলসভাবে সেবা করে যাচ্ছি। আমার ইউনিয়নে শতভাগ বয়স্ক ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটিও ফৌজদারী মামলা হয়নি। ফলে সার্বিকভাবে ইউনিয়নের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
সরজমিনে জানা যায়, ইউনিয়ন থেকে বেকারত্ব দূর করার লক্ষে দ্বীপপুর ইউপির চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর একটি হলো- ‘লিকড়া বিল মৎস্যচাষ প্রকল্প’ চালু করা। এই প্রকল্পের পক্ষ থেকে লিকড়া বিলে যাদের মালিকানা জমি রয়েছে তাদের জমিতে সব :ধরনের ফসলে বিনা মূল্যে সেচ সুবিধা দিতে বিলের মধ্যে ১৪টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য চারটি স্যালোমেশিন স্থানপন করা হয়েছে। এতে কৃষকেরা কম খরচে ফসল উৎপাদনের পাশাপশি সম্মিলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করায় উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত হচ্ছেন। এর ফলে বিল সংলগ্ন এলাকার প্রায় দেড় হাজার কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। তারা এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। ঘুরে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। অভাব-অনটনে ভরা কৃষক পরিবারের সংসারে এখন ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা। ইউনিয়ন থেকেও দূর হয়েছে বেকারত্বের সমস্যা।
লাউবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ ও নানসর গ্রামের মোজাম্মেল হকসহ বিল সংলগ্ন এলাকার একাধিক কৃষক জানান, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ব্যক্রিমী এই প্রকল্প চালু করায় কৃষি ও মৎস্য উভয় ক্ষেত্রেই তারা উপকৃত হচ্ছেন। তাদের মতো আবুল কালাম, মজিবর রহমান, ফয়েজ আলী, খলিল হাজী, জালাল উদ্দিন শাহ, রহমত আলী ও মুনছুর রহমানসহ এলাকার শতশত কৃষক পরিবারের সংসারে বর্তমানে সুদিন ফিরে এসেছে। এছাড়া নানসর গ্রামের গরীব কৃষক আমজাদ হোসেন তার তিন মেয়েকে এবং ওসমান আলী তার দুই মেয়েকে এই প্রকল্পের লাভের অর্থ দিয়ে সম্প্রতি বিয়ে দিতে পেরে নিশ্চিন্ত হয়েছেন এবং তারা এখন সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছেন।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন- ‘লিকড়া বিল মৎস্যচাষ প্রকল্প’ থেকে কন্যা দান, বিভিন্ন ধর্মী প্রতিষ্ঠানে এবং গরিব ও অসহায় রোগীর আর্থিক সহযোগীতা দেয়া হয়। এছাড়া জনগনের যে কোনো প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে থেকে যেভাবে সহযোগীতা করে আসছি তার মূল্যায়ন ইউনিয়নবাসী অবশ্যই করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কাজেই দ্বীপপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আশায় আমি দলীয় মনোনয়ন ফরম পূরন করে জমা দিয়েছি। আশা করি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে অবশ্যই আমি পুন:বিজয়ী হবো এবং দলকে চেয়ারম্যান উপহার দিতে পারবো ইনসাল্লাহ্।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *