দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে সমালোচিত ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম

বহুল সমালোচিত” ফ্রি ফায়ার ও পাবজি”যুব সমাজের নিকট জনপ্রিয় গেম ২টি অবশেষে বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সুপারিশ করেছে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুবসমাজ বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে দুই মন্ত্রণালয়  বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।আলোচনায় ওই দুই গেমের আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।
 উল্লেখিত  গেম  ২টি কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তির মতই  আসক্তি তৈরি করেছে।
করণা মহামারীতে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের অলস সময় কাটানোর জন্য এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তদের যেমন মস্তিষ্কে মাদকের নেশা ছাড়া অন্য কিছু কাজ করে না ,সম্প্রতি গেম দুটিতে উঠতি বয়সী তরুণ তরুণীরা এতটাই  আসক্ত হয়েছে যে,নাওয়া-খাওয়া ভুলে ও নির্ঘুম রাত জেগে‌এই গেমের ভিতরে ডুবে থাকছে।
এ গেমের প্রভাবে মাতাল তরুণ সমাজ। এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনার জন্য অবিভাবকের সাথে ঝগড়া, মান অভিমান,  বাড়ি থেকে চলে যাওয়া , এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া বেড়েছে চুরি বা ছিনতাই।
গত কয়েক দিন আগে রাজশাহীর চারঘাট থেকে শহরের এক মা তার সন্তানের খোঁজে আসে।
তিনি জানান মোবাইল কিনে দেওয়ার আবদার পূরণ করতে না পারায় তার ছেলেকে  অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে গেছে খুঁজে পাচ্ছে না। তাই তিনিৎছেলের খোঁজে রাজশাহী শহরের অলিতে গলিতে ঘুরছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এই গেমটি ইসলামবিরোধী খ্রিস্টানদের তৈরি। এই গেমে ইসলাম এবং আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে অপমান করা হয়েছে।  অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুক দিয়ে মসজিদে মুসলমানদের হত্যা এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভের বিষয়টি অনেকেই পাবজির সঙ্গে তুলনা করেন।
এই গেমটি বন্ধের জন্য অনেক আগে থেকেই  ইসলামের ধারক বাহকেরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
দেরিতে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই গেম দুইটির ভয়ঙ্কর প্রভাব অনুধাবন করতে পেরে, গেম দুটি বন্ধ করছেন এজন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তানোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, তিনি তানোরে শিক্ষাকতা করলেও তিনি শহরে অবস্থান করেন। শহরের চেয়ে গ্রামে এই গেমে আসক্ত বেশি তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। নাওয়া খাওয়া ভুলে ফাঁকা মাঠে ,গাছের নিচে ,পুকুর ধারে, চায়ের আড্ডায় ,চলার পথে ,বাস ,ট্রেনসহসকল যানবাহনে চোখ সবার এন্ড্রয়েড মোবাইলে।কারণ একটাই সবাই গেমের নেশায় । পার্থিব জগৎ সম্বন্ধে তাদের কোনো খেয়াল নাই।
 শিরোইল মোসজিদ মিশন একাডেমী অধ্যক্ষ বলেন,
এ গেম দুটি সরকারের অনেক আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত ছিল। দেরিতে হলেও সরকার বুঝতে পেরে গেম দুটি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে এজন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
তিনি জানান কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তরুণ সমাজকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে হবে।
ইহুদিরা মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য এই গেমটি তৈরি করে ইন্টারনেটে অ্যাপের মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।
আমাদের দেশের তরুণ সমাজ এই গেম ২টিতে  আসক্ত হয়ে পড়েছে।
দেশে করনা মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে অলসতা এসেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। ছেড়েছে পড়ার টেবিল। সময় কাটানোর জন্য তারা ব্যবহার করছে এন্ড্রয়েড মোবাইল। অলস সময় কাটানোর জন্য মোবাইলে গেমটি খেলতে গিয়ে তারা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।
এই গেম খেলার জন্য বাবা-মাকে বাধ্য করছে এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনতে, অভিভাবক ব্যর্থ হলে মান-অভিমানে কেউ আত্মহত্যা করছে।
রাজশাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান বলেন ,  গেম দুটি  খেলার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনলাইনে গেম খেলার পাশাপাশি ভার্চ্যুয়ালে অর্থ লেনদেন হচ্ছে এমএমএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি ও পরিবার।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। তাই ধীরে সুস্থে বিকল্প পদ্ধতিতে গেম দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়া যারা এ ধরনের গেমে আসক্ত তারা ভিপিএনসহ নানা বিকল্প উপায়ে গেমটি খেলতে পারে। আমরা সেসবও বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব।
শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে গেম দুটির ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
উন্নত বিশ্বেরমত আগামীর তরুণ প্রজন্মকে সহজলভ্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির জন্য সরকার‌ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখন আগামী তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির অপ-ব্যবহার করে বিপথগামী হয়েযাচ্ছ, যা  সচেতন অভিভাবক মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
 টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক কমিশনকে দ্রুত এবং দ্রুততার সহিত এ গেমগুলোর অপব্যবহার বন্ধ এবং প্রযুক্তির ভালো দিক তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়তে আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক মহল।
প্রসঙ্গত, চীনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে তৈরি করা যুদ্ধ গেম ফ্রি ফায়ার ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ব্লু হোয়েলের অনলাইন ভিডিও গেমটির মতোই। ২০১৯ সালে এটি বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ডাউনলোড করা মোবাইল গেম ।
গেমটি অন্য খেলোয়াড়কে হত্যা করার জন্য অস্ত্র এবং সরঞ্জামের সন্ধানে একটি দ্বীপে প্যারাসুট থেকে পড়ে আসা ৫০ জন ও তার অধিক খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে।বর্তমানে ফ্রি ফায়ারের উন্নত সংস্করণে কাজ চলছে যা ফ্রি ফায়ার ম্যাক্স নামে পরিচিত।
এসব গেম কোমলমতিদের ওপর মনস্তাত্বিক প্রভাব ফেলছে এবং তরুণদের আগ্রাসী করে তুলছে বলে মত দিয়েছেন মন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *