দাম বাড়ার পর থেকেই রাজশাহীতে হটাৎ গ্যাস সিলিন্ডার-সংকট

আবুল কালাম আজাদ(রাজশাহী):-দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই রাজশাহীতে রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিবেশকেরা বলছেন, তাঁরা তিন থেকে চার দিন আগে গাড়ি পাঠিয়েছেন, কিন্তু গাড়ি আসছে না। তাঁদের গুদামে এখন খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে। বৃহস্পতিবার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী নগরে সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দয়েছে।
৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে রাজশাহী নগরের গৌরহাঙ্গা এলাকার পরিবেশক মেসার্স আনন্দ কুমার সাহার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ব্যবস্থাপক সজীবের সঙ্গে কথা হয়।
তিনি বলেন, তাঁরা ওমেরা কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তাঁদের প্রায় ১৫ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে। চার দিন আগে গাড়ি পাঠিয়েছেন, সেই গাড়ি আসেনি। ঘরে সব খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে অভিযান চালিয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করার অভিযোগে তাঁদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে তাঁরা আর ব্যবসা করতে পারবেন না। দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাঁরা দাম না বাড়িয়ে তো আর বিক্রি করতে পারবেন না।
যমুনা ও লাভ কোম্পানির গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স হালিমা এজেন্সির ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, তাঁদের প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার গ্যাসের সিলিন্ডারের চাহিদা রয়েছে। তাঁরা দুই দিন পরপর একটি করে গাড়ি পাঠিয়ে থাকেন। তাতে ৬১৬টি সিলিন্ডার আসে। এখন তাঁদের বলা হচ্ছে, ‘তিন থেকে চার দিন পর গাড়িতে ২০০ সিলিন্ডার দেওয়া হবে। নিলে নাও, না নিলে যাও।’
তিনি আরও বলেন, এখন তাঁরা গ্রাহককে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না। অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন।
অগ্নি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামীমা সুলতানা বলেন, তাঁর প্রায় দুই হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা আছে। তাঁকে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে।জানুয়ারি মাসটা তাঁদের খুব ভোগান্তি হয়েছে। একটা সিলিন্ডার থেকে তাঁর ৮ থেকে ১০ টাকা লাভ হয়। এখন একসঙ্গে ২৬৬ টাকা বাড়ালে লাভটা যোগ করার আর জায়গা থাকছে না। এতবার দাম কমানো-বাড়ানো নিয়ে তাঁরা গ্রাহকের কাছে চরমভাবে অপমানিত হচ্ছেন।
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম একলাফে ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা, যা জানুয়ারি মাসে ছিল ১ হাজার ২৩২ টাকা।
২ ফেব্রুয়ারী  বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসির পক্ষ থেকে নতুন দর জানানো হয়। সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে তা সব জায়গায় কার্যকর হতে দেখা যায় না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযোগ জানাতে বলা হয়। বিইআরসি জানিয়েছে, ঘোষিত নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসের ক্ষেত্রে দর ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৬৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *