ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনগুলোই অবশেষে গ্রহণ করল বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আবুল কালাম আজাদ :-চুক্তি ভঙ্গ করে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম নামের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১০টি ইঞ্জিনে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোজন করে সরবরাহ করেছে। ইঞ্জিনে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোজনের অভিযোগ ওঠার পর গত ১৪ মাসেও যন্ত্রাংশ বদল করেনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনগুলোই গত ৪ অক্টোবর গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করার পর তার মধ্যে একটি ইঞ্জিন সংযোজন করে ৬ অক্টোবর রেলপথে ট্রেন পরিচালনা করলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এসব ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন দেশে আনার পর গত বছর আগস্টে ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করা হয়নি বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে। ওই সময় অভিযোগ ওঠার পর রেলপথ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটি তদন্ত করে শর্ত লঙ্ঘন করে ইঞ্জিনগুলোয় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোজনের প্রমাণ পায়। অলটারনেটর পরিবর্তন, না হয় জরিমানা- এই শর্তে ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ট্রিপেই ফেল করে ১০টি ইঞ্জিনের একটি( ৩০০৩ মডেলের ইঞ্জিন)। ৬ অক্টোবর রাতে ইঞ্জিনটি চট্টগ্রাম থেকে রওনা দেওয়া ঢাকা মেইল ট্রেনে সংযোজন করা হয়। পরদিন সকালে ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন চালিত ট্রেনটি ঢাকার তেজগাঁওয়ের কাছে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেশন শাখা থেকে জানা গেছে, এরপর বিকল্প ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ করা ১০টি ইঞ্জিনে টিএ১২ মডেলের অলটারনেটর সংযোজনের শর্ত ছিল। চুক্তি ভঙ্গ করে ইঞ্জিনগুলোয় টিএ৯ মডেলের অলটারনেটর সংযোজন করেছে হুন্দাই রোটেম। এগুলো নিম্নমানের অলটারনেটর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঞ্জিনগুলো প্রয়োজনে ব্রডগেজে পরিচালনা করার জন্য রূপান্তর করা যাবে না।

১০ ইঞ্জিন সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালক হাসান মনসুর এর আগে দাবি করেছেন, এই ইঞ্জিনগুলো এতো নিম্নমানের বলে গণমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তা সত্য নয়। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষে গত ৪ অক্টোবর ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। অলটারনেটর বদল করা সম্ভব কি না তা জানতে চেষ্টা চালাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এজন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ছয় মাস সময় চেয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বার বার চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলতে চাইলে তিনি সবসময়ই বলছেন, ব্যস্ত আছি, কথা বলতে পারব না।

প্রসঙ্গত, ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কেনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ও হুন্দাই রোটেমের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৭ মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *