চার ভূয়া সাংবাদিককে বেঁধে গনপিটুনি, ভিডিও ভাইরাল

আবুল কালাম আজাদ:-চার ব্যক্তির হাত পেছনে বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আর লাঠি দিয়ে চলছে পিটুনি। এমন একাধিক ভিডিও সোমবার রাতে (০৪ মে) রাতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাস্থল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা। যাদের বেঁধে পিটুনি দেয়া হয়েছে তাঁরা ভূয়া সাংবাদিক। সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
এরা হলেন- নাসির উদ্দীন, আলমগীর হোসেন, সাফিয়ান স্বাধীন ও মো. শুভ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, এরা সাংবাদিক পরিচয়ে গোটা জেলা দাপিয়ে বেড়ান। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। তাঁদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। সোমবার তাঁরা গোদাগাড়ীতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।
এই চার ভূয়া সাংবাদিক সোমবার গোদাগাড়ী উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে নাহার ফুডস অ্যান্ড বেকারী নামের একটি কারখানায় চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিলেন। প্রাইভেটকার নিয়ে তাঁরা কারখানায় যান। চারজনের মধ্যে নাসির উদ্দীন নিজেকে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়েছিলেন। অন্য তিনজন বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছিলেন।
বেকারীর মালিক আব্দুল মতিন বিপু জানান, দুপুরে এই চারজন তাঁর কারখানায় যান। তখন তিনি কারখানায় ছিলেন না। চারজনের মধ্যে নাসির উদ্দীন নিজেকে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন। অন্য তিনজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তাঁরা ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ম্যাজিস্ট্রেট মোটা অংকের জরিমানা করবেন বলেও ভয় দেখানো হয়। কারখানার কর্মচারীরা তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
বিপু বলেন, ‘টাকা চাওয়ার বিষয়টি শুনেই আমার সন্দেহ হয়। কারণ, একজন ম্যাজিস্ট্রেট কখনও টাকা চাইবেন না। তাই আমি ওই চারজনকে আটকে রাখার জন্য কর্মচারীদের বলি। এরই মধ্যে এলাকাবাসী ও কারখানার কর্মচারীরা তাঁদের বেঁধে মারধর শুরু করেন। পিটুনি খেয়ে প্রতারকেরা স্বীকার করেন যে তাঁরা ম্যাজিস্ট্রেটও নন, সাংবাদিকও নন। পরে আমি গিয়ে ছেড়ে দেই।’
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, চারজনের হাত বেঁধে বেদম পেটানো হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে এসব ভিডিও শেয়ার হয়েছে। সেখানে ভুক্তভোগীরা এই চক্রটির প্রতারণার আরও নানা ঘটনা তুলে ধরছেন। ধরে পিটুনি দেয়ায় অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, মিমাংসা হয়ে গেছে। প্রতারকদের ছেড়েও দেয়া হয়েছে। তাই তাঁদের ধরা যায়নি। ওসি বলেন, মারধর না করে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া উচিত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *