কঠোর লকডাউন’  রাজশাহী মহানগরীর সড়ক গুলো ফাঁকা,  রাস্তায় নামলেই পুলিশের জেরার মুখে মানুষ

আবুল কালাম আজাদ : -রাজশাহীতে  তৃতীয় দিনের মতো চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। আর লকডাউন বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন কঠোর অবস্থানে । শনিবার (৩ জুলাই) নগরীর রাস্তাঘাটে ছিলো একদম ভিন্ন চিত্র। গত কয়েক সপ্তাহের চেয়ে লকডাউনের পরিবেশ ছিলো একদম আলাদা। সকাল থেকে নগরীর সড়ক ও পাড়া-মহল্লার গলিপথে টহলে দায়িত্বপালন করতে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে।
শুধু মাত্র কাঁচাবাজারে কেনাকাটায়  মানুষের কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া লক্ষিপুর মেডিকেল এলাকায় কিছু মানুষের আনাগোনা ছিলো। যারা সবাই চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজের। তবুও‌ তাদের সবাইকেই পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। জরুরিসেবা গুলো চালু রয়েছে আগের মতো। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও খাবার পরিবহনের যানবাহনগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলেছে। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দুই প্লাটুন টিম ও বিজিবির তিনপ্লাটুন টিম কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিভিন্ন দফতরের আরো ছয়টি টিম কাজ করছে। নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
 ৩ জুলাই শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় নগরীর আলুপট্টি স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে গিয়ে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশ ও পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে করছে। একটু পর পর বিজিবির দুইটি পিকআপ টহল দিচ্ছে।
 বেলা ১১ টায় শিরোইল ঢাকা বাসট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ততম এই রাস্তায় এখন সুনশান অবস্থা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ১১:২০ মিনিটে রেলগেট এলাকাও বিন্দুর মোড়ে তিনটি পয়েন্টে অবস্থান করছে পুলিশ। কাউকে রাস্তায় দেখলে বা কোনো গাড়ি দেখামাত্রই তাদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২ টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ডান-বাম দুই পাশেই পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসহ আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছে। আরডিএ মার্কেট মণিচত্বরে একই অবস্থা।
এখানে দায়িত্ব পালন করছে কয়েকটি ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরাও। যারা বাইরে বের হয়েছে তাদের সবাইকে পুলিশ জেরা করে ছাড়ছেন। একটু পরে রহিম-ইমরান নামের দুই কিশোরকে মাস্ক না পরার কারণে দুই পুলিশ কসন্টেবল ধরে নিয়ে আসলেন। তাদের জেরা করার এক পর্যায়ে দুই কিশোরের মা এসে মাস্ক্র কিনে দুই সন্তানের মুখে পরিয়ে দিলেন। পুলিশের কাছে ক্ষমা চাইলেন। পুলিশ তাদের মাস্ক না পরে বাইরে বের না হওয়ার বিষয়ে কঠোর ভাবে জানিয়ে দিলেন। সাহেববাজার মাস্টা পাড়া কাঁচা বাজারে পুলিশের সার্বক্ষণিক স্বাস্থাবিধি মানতে হ্যান্ডমাইক দিয়ে সবাইকে সচেতন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রের দেখা মিলেছে পুরো নগরীতে।
অন্যদিকে নগরীর প্রবেশমুখের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। নগরীর ৪ প্রবেশমুখ আমচত্বর, কাশিয়াডাঙ্গা, বেলপুকুর ও কাটাখালী এলাকায় পুলিশ সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পণ্যবাহী পরিবহন, পিকআপ ভ্যান , মালবাহী ট্রাক ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন নগরীতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
নগর পুলিশের মুখপাত্র ও আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সারাদেশের মত রাজশাহী নগরীতেও কঠোরভাবে লকডাউনে কাজ করছে নগর পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে মোড়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাইরে বের না হয় সে বিষয়ে কঠোরভাবেই কাজ করা হচ্ছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বাত্মক ‘বিধিনিষেধ’ বা ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘কঠোর লকডাউন’ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ও আনসার সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া উপজেলাগুলোতেও সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *