ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের ফলে কোলকতা- শিলিগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফেরী পারাপারের দুর্ভোগ ঘোচাতে খরস্রোতা পদ্মার উপর নির্মিত হয় ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ১৯১২ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হলে এই সেকশনে কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের ফলে আর সাঁড়াঘাটের প্রয়োজনীয়তা থাকল না। ফলে সাঁড়া স্টেশনটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। গড়ে ওঠে বাংলাদেশের বৃহত্তম ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন। বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে রেলওয়ে ইয়ার্ড ছাড়াও ঈশ্বরদীতে নির্মাণ করা হয় লোকোশেড। এই লোকোশেডটি বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্রডগেজ লোকোমোটিভের মাতৃভূমি হিসেবে খ্যাত। এছাড়া হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের পর পাকশীকে গড়ে তোলা হয় রেলওয়ে সদর দফতর হিসেবে। পাকশী ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সদরদপ্তর। পরে তা রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে পাকশী বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় শহর এবং সদরদপ্তর।

১৯২৬ সালে নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কোম্পানি কর্তৃক পদ্মাপাড় থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত মিটারগেজ লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়। ফলে পুরো কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটটি ব্রডগেজে রুপান্তরিত হয়। স্থাপিত হয় নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুততম যোগাযোগ ব্যবস্থা। সে সময় কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করত ঐতিহাসিক দার্জিলিং মেইল। এছাড়া কলকাতা-পার্বতী এর মধ্যে চলাচল করত নর্থ বেঙ্গল মেইল। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও বাংলার কিংবদন্তি ট্রেন দার্জিলিং মেইল এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এখনও যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এদেশে নয়, কলকাতার শিয়ালদহ-দার্জিলিং রুটে ট্রেনটি নিয়মিত চলাচল করছে।

উত্তরবঙ্গে রেলওয়ে আগমনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বন্যা, খরা, নদীভাঙন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত উত্তরবঙ্গে রেলওয়ে আগমনের ফলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। কলকাতার সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের পর এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে সুগার মিল, জুট মিলসহ ছোট-বড় অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *