এবার আম নিয়ে বিপাকে চাষী ও ব্যবসায়ীরা !

লালন উদ্দীন , বাঘা :চলছে আষাঢ় মাস। এক স্থানে রোদ তো আরকে স্থানে বৃষ্টি। তার উপরে শুরু হয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কঠোর লকডাউন। এর ফলে গন-পরিবহন বন্ধ। সরকারের নির্দেশ, বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। এই কঠোর অবস্থান ও লকডাউনে এবার আম নিয়ে মহাবিপদ এবং উৎকন্ঠায় রয়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।


রাস্তার দুই ধারে সারি-সারি আম বাগান আর সুস্বাদু-বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে রাজশাহী অঞ্চলের নাম। এই জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূলত আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘা উপজেলা। এই জেলায় ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৮ হাজার ৫৭০ হক্টের আম বাগান রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাঘা উপজেলায়। মাটি গুনে এ উপজেলার আমকে দেশ বিখ্যাত আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি হামিদুল ইসলাম-সহ ঢাকা, নরসিংদি, ফরিদপুর , ভৈরব এবং বরিশালের আম ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে বাঘার আম সমাদৃত এবং এর চাহিদাও অনেক বেশী।
এদিকে গত ৫-৬ বছর থেকে বাঘার সুনামধন্য গোপালভোগ, হিমসাগার, আ¤্রপালি, ল্যাংড়া, তোতাপরি এবং ফজলি আম রপ্তানী করা হচ্ছে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পর্তুগাল, ফ্রান্স সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এর পরিধি অর্থাৎ পরিচিতি ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান। তিনি এ বছর ম্যাংগো ব্রান্ডিং কম্পিটিশন-২০২১ চালু করেছেন। যাতে করে বিদেশী মানুষের কাছে আমরা সুনাম অর্জন করতে পারি। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা-সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এই আয়োজেনর মধ্যে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে ৮ টি সর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ সর্তে যারা জয়ী হবেন তাদের জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় পুরুস্কার।
তবে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেওয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নেওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে লকডাউন ঘোষনা করেছেন। এর ফলে দেশের বাইরে তিন বার আম চালান দেওয়ার পরে আর সেটি সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে যে সকল এলাকায় আমের বড়-বড় মোকাম (আড়ত) রয়েছে সে সব আড়তদ্বাররা করোনা এবং লকডাউনের কারণে এবার কেউই আম নিতে চাচ্ছেনা। কিংবা নিলেও ন্যায্য দাম দিতে চাচ্ছেনা। ফলে আম নিয়ে চরম হতাশা এবং উৎকন্ঠায় রয়েছেন এ অঞ্চলের আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার আমোদপুর গ্রামের আম চাষী আব্দুর রাজ্জাক ও বাঘার আম ব্যবসায়ী মুক্তার আলী বলেন, করোনার কারণে সরকার লকডাউন ঘোষনা করায় শহরগামী লোকজন কেউ বাড়ীর বাইরে বের হচ্ছেনা। ফলে আমের বাজারে ধস নেমেছে। মুক্তার আলী বলেন, গত দুই তিন বছর ধরে আমের ব্যবসায় অনেকেই লচ(লোকশান) গুনেছেন। এ দিক থেকে এবার লাভ করার স্বপ্ন ছিলো অনেকের। কিন্তু মহামারি করোনা সব কিছুকে তছ-নছ করে দিলো।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, আমের রাজধানী হিসাবে সু-প্রাচীনকাল থেকে প্রসিদ্ধ প্রাচীন নগরী রাজশাহীর বাঘা উপজেলা।এখানে প্রতœতাত্বিক নিদর্শন বাঘার ৫ শ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের শিলা লিপিতেও এই উপজেলার আমের ঐতিহ্য বহন করে। ১৫২৩-১২২৪ খিস্টাব্দে (হিজরি-৯৩০) হোসেন শাহ্ এর পূত্র নুসরাত শাহ বাঘার শাহী মসজিদ নির্মান করেন। এই শাহী মসজিদের শিলালিপিতে বাঘার আমের টেরাকোটা অংকিত আছে। যা থেকে প্রমানিত হয় বাঘার আমের সু-খ্যাতি প্রাচীন আমল থেকে স্বীকৃত।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল আম। এখানকার কৃষকরা প্রতি বছর আম বিক্রী করে অর্থ উপারজন করে থাকেন প্রায় ১৮ শ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *