আশির দশকে বেনাপোল-পেট্রাপোল রেল বর্ডার

আবুল কালাম আজাদ (বিশেষ প্রতিবেদক):-এই রেলপথের নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৮৮৪ সালে এবং সেই বছরই ট্রেন চলাচর শুরু করে। ‘বরিশাল এক্সপ্রেস’ চলাচলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা-যশোর অঞ্চলে রেল যুগের সূচনা ঘটে। অন্যান্য অঞ্চলের মতোই পিছিয়ে পড়া বাঙালী একরাশ বিস্ময় নিয়ে চেয়ে থাকল নতুন যুগের এই যন্ত্রদানবের প্রতি। হিস হিস করে বাঁশি বাজিয়ে বরিশাল এক্সপ্রেস আসতেই স্টেশনের আশপাশে কৌতূহলী মানুষের ভিড় লেগে যেত। রেল আগমনের ফলে খুলনায় যেন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে যায়। এর কয়েক দশকের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে পাটকল, কাগজকলসহ ভারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বিদেশী বণিকদের আনাগোনায় মুখরিত হতে থাকে খানজাহানের স্মৃতিবিজড়িত শহর। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো শহর হলেও রেল যোগাযোগ না থাকায় যশোর যেন স্থবির হয়ে পড়েছিল। রেলপথ স্থাপনের পর কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরটি।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরে বাংলাদেশ অংশের বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত রেলপথটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই পাকিস্তান সরকার অতি দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যশোর থেকে দর্শনা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১৯৫১ সালের ২১ এপ্রিল বিচ্ছিন্ন এই রেলপথকে বাংলাদেশের মূল রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। ফলে খুলনা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ব্রডগেজ রেলপথ প্রতিস্থাপিত হয়।

১৮৮৪ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত শিয়ালদাহ থেকে বনগাঁ হয়ে খুলনা পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রীবাহী এবং মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের জের ধরে অন্যান্য ট্রানজিট পয়েন্টের মতো শিয়ালদাহ-খুলনা রুটেও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। দীর্ঘ ৫২ বছর বন্ধ থাকার পরে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চালুর মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পায় রেল রুটটি।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *